Monday, September 18, 2017

10 - ইনডিকেটর

ইন্ডিকেটর কি?

ইন্ডিকেটর এক ধরনের নির্দেশক, যা আপনাকে প্রাইস বাড়বে কি কমবে নির্দেশ করে। যদি আপনার অজানা থাকে যে প্রাইস কি বাড়তে পারে কিংবা কমতে পারে, তবে ইন্ডিকেটর আপনাকে সে ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। এটা বিভিন্ন সিগন্যাল দেখায় যার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে পরবর্তীতে প্রাইস বাড়বে না কমবে এবং সে অনুসারে ট্রেড করতে পারেন। এছাড়া অনেক ইন্ডিকেটর মার্কেট ট্রেন্ড বুঝতেও আপনাকে সাহায্য করবে।
মনে রাখবেন ইন্ডিকেটর কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ফর্মুলা দিয়ে কাজ করে। তাই আপনি যে সব সময় সঠিক সিগন্যাল পাবেন তা নয়। অনেক সময় ভুল সিগন্যাল আসতে পারে। আবার ফান্ডামেন্টাল নিউজের কারনে ইন্ডিকেটরের সিগন্যাল অনেক সময় কাজ করবে না। তাই অন্ধভাবে ইন্ডিকেটর অনুসরন না করে নিজের অ্যানালাইসিসকে এর সাথে কাজে লাগিয়ে ট্রেড করুন।
অনেক ইন্ডিকেটর রয়েছে। মেটাট্রেডারে ডিফল্টভাবে কিছু ইন্ডিকেটর দেয়া থাকে। যেমনঃ Bollinger Bands, Moving Average, parabolic Sar ইত্যাদি। এছাড়াও অনলাইনে হাজার হাজার ইন্ডিকেটর ফ্রি পাওয়া যায়। আপনি সেগুলো মেটাট্রেডারে যোগ করে নিতে পারবেন। গুগলে Forex indicator লিখে সার্চ করলেই অনেক ইন্ডিকেটর পাবেন। এছাড়া বিডিপিপসের "ফরেক্স ইন্ডিকেটর" সেকশনে অনেক ইন্ডিকেটর রয়েছে। যেকোনো ইন্ডিকেটর প্রথমে ডেমোতে টেস্ট করে দেখুন। ফলাফল ভাল লাগলে তারপর রিয়েল ট্রেডে ব্যবহার করুন।
ফরেক্সে প্রফিট করার অনেক উপায় রয়েছে। আর আপনি যখন ইন্ডিকেটর নিয়ে কাজ করবেন, এরা আপনার ট্রেডিং টুলবক্সে একেকটি ভিন্ন ভিন্ন টুলস হিসেবে কাজ করবে। আপনার হয়তো ইন্ডিকেটর ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে, কারন হয়ত আপনি নিজেই অনেক ভাল মার্কেট অ্যানালাইসিস করতে পারেন অথবা আপনার আগে থেকেই পছন্দের ইন্ডিকেটর রয়েছে। কিন্তু নতুন নতুন টুলস আপনার ট্রেডিংকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং আপনি আরও ভালভাবে অ্যানালাইসিস করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু খুব বেশি ইন্ডিকেটর ব্যবহার না করাই ভাল। ভিন্ন ভিন্ন ইন্ডিকেটর হয়তো আপনাকে আরও দ্বিধাগ্রস্থ করে তুলবে।
আমরা এখানে যেসব ইন্ডিকেটর নিয়ে আলোচনা করব তা হলঃ
  • Bollinger Bands
  • Moving Average
  • RSI
  • ADX
  • Parabolic Sar
  • Stochastic
শুধুমাত্র একটি ইন্ডিকেটর কখনো অন্ধভাবে অনুসরণ করবেন না। কমপক্ষে ২-৩ টি ইন্ডিকেটর দেখে অ্যানালাইসিস করে ট্রেডের প্রস্তুতি নিন। ইন্ডিকেটর অনেক সময় ভুল সিগন্যাল দেয়।

Bollinger Bands

মার্কেট ভোলাটিলিটি অনুধাবন করার জন্য Bollinger Bands ইন্ডিকেটরটি ব্যবহার করা হয়।
এই ছোট টুলসটি আমাদের বলে দিবে যে মার্কেট কি এখন শান্ত না অশান্ত। যখন মার্কেট শান্ত থাকে তখন ব্যান্ড ২টি সংকুচিত হয়ে যায়, আর যখন মার্কেট অশান্ত থাকে তখন ব্যান্ড ২টি প্রশস্ত হয়ে যায়।
নিচের চার্টটি দেখুন। যখন মার্কেট শান্ত ছিল, তখন ব্যান্ড ২টি কাছাকাছি ছিল। কিন্তু যখন প্রাইস খুব দ্রুত বেড়ে গেছে অর্থাৎ মার্কেট অশান্ত হয়ে গেছে, তখন ব্যান্ড ২টি দূরে সরে গেছে।

Bollinger Bounce:

Bollinger Bands সম্পর্কে একটি ব্যাপার আপনার জেনে রাখা দরকার যে প্রাইস অধিকাংশ সময় ব্যান্ডের মাঝখানে ফিরে আসে। এটাই হল Bollinger Bounce এর আসল আইডিয়া। নিচের চার্টটি দেখে কি আপনি বলতে পারেন যে প্রাইস পরবর্তীতে কোথায় যেতে পারে?

এখন আপনি যদি বলে থাকেন যে দাম কমবে তাহলে আপনার উত্তর সঠিক। নিচের চার্টে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে প্রাইস কমে গেছে এবং প্রাইস ব্যান্ড ২টির মাঝখানে চলে এসেছে।

আপনি এখন যেটা দেখলেন সেটা হল Bollinger Bounce. এরকম বাউন্স হবার কারন হল Bollinger bands এর ব্যান্ড ২টি ডাইনামিক সাপোর্ট এবং রেসিসট্যান্স লেভেল হিসেবে কাজ করে।
আপনি যত বড় টাইমফ্রেম ব্যবহার করবেন, ব্যান্ডগুলো তত শক্তিশালি হবে। মার্কেট যখন একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে ঘোরাফেরা করে এবং কোন নির্দিষ্ট ট্রেন্ড থাকে না, তখন এই স্ট্রাটেজীটি ভাল কাজ করে।

Bollinger Squeeze:

যখন ব্যান্ড ২টি খুব বেশি সংকুচিত হয়ে যায় তখন এটি সাধারনত নির্দেশ করে যে সম্ভবত ব্রেকআউট হতে যাচ্ছে।
যদি ক্যানডেল ওপরের ব্যান্ডটিকে ব্রেক করে ওপরে উঠে যায় তবে সাধারনত প্রাইস আরও ওপরে উঠতে থাকে অর্থাৎ প্রাইস বাড়তে থাকে। আর যদি ক্যানডেল নিচের ব্যান্ডটিকে ব্রেক করে নিচে নামতে থাকে, তাহলে প্রাইস আরও নিচে নামতে থাকে অর্থাৎ প্রাইস কমতে থাকে।

ওপরের চার্টটি দেখুন। ব্যান্ড ২টি সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রাইস ওপরের ব্যান্ডটি ব্রেক করে ওপরে উঠে যাচ্ছে। এই চার্টের ওপর ভিত্তি করে আপনি কি মনে করেন প্রাইস কি বাড়বে না কমবে?

আপনি যদি বলে থাকেন যে প্রাইস বাড়বে তাহলে আপনি সঠিক। এভাবেই সাধারন Bollinger Squeeze কাজ করে।
এরকম ট্রেডের সুযোগ আপনি প্রতিদিন পাবেন না। কিন্তু ১৫ মিনিটের চার্টে আপনি সপ্তাহে কয়েকবার এরকম ট্রেডের সুযোগ পেতে পারেন।
Bollinger bands দিয়ে বিভিন্ন ভাবে ট্রেড করা যায়। কিন্তু এই ২টি হল Bollinger Bands দিয়ে ট্রেড করার সবচেয়ে সহজ এবং সাধারণ ট্রেডিং স্ট্রাটেজী।

 

01 বলিঙ্গার ব্যান্ডস


বলিঙ্গার ব্যান্ডস (বিবি)

বলিঙ্গার ব্যান্ডস জন বলিঙ্গার নামে একজন তৈরী করেছিলেন। বলিঙ্গার ব্যান্ডস মার্কেটের ভলাটালিটি পরিমাপ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও বলিঙ্গার ব্যান্ডস দ্বারা আরো অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। যেসব তথ্য আমরা বলিঙ্গার ব্যান্ডসের মাধ্যমে পেতে পারি তা হল:

ট্রেন্ডের দিকনির্দেশনা


  • ট্রেন্ড সম্প্রসারন অথবা মার্কেট কনসোলিডেশন (একীকরন) পেরিয়োড
  • আসন্ন বড় ধরনের ভলাটাইল ব্রেকআউট
  • মার্কেটের আনুমানিক টপ ও বটম
  • প্রাইস টার্গেট
বলিঙ্গার ব্যান্ডস চার্টে ৩ টি লাইন আকারে দেখা যায়। প্রাইস শতকরা ৮৫% সময় এই লাইনগুলোর সীমানার মধ্যে থাকে। লাইনগুলি হল:


  • মধ্যের লাইনটা হল সিম্পল মুভিং এ্যাভারেজ যার ডিফল্ট ভ্যালু হল ২০ পেরিয়োডের।
  • লোয়ার ব্যান্ড - এসএমএ বিয়োগ ২ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন।
  • আপার ব্যান্ড - এসএমএ যোগ ২ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন।

নিম্নের ছবিটি দেখুন


বলিঙ্গার ইনডিকেটর

যখন প্রাইস বলিঙ্গার ব্যান্ডসের মধ্যের লাইনের নিচে থাকে তখন সেটাকে ডাউনট্রেন্ড হিসেবে ধরা হয়। যখন প্রাইস বলিঙ্গার ব্যান্ডসের মধ্যের লাইনের উপরে থাকে তখন সেটাকে আপট্রেন্ড হিসেবে ধরা হয়। চার্টে আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করবেন যে ব্যান্ডগুলো উপরমুখী এবং নীচমূখীভাবে মুভ করে। সেটা থেকেও আপনি ধারনা নিতে পারেন যে পরবর্তীতে প্রাইস কোন দিকে যেতে পারে। আরো লক্ষ্য করুন যে ব্যান্ডগুলো সমান্তরালভাবে মুভ করছে না। নিম্নের ছবিটি দেখুন:


ফরেক্স বলিঙ্গার



উপরের ছবিগুলো দিয়ে বুঝতে পারছেন যে বোলিঙ্গার ব্যান্ড বহু ধরনের তথ্য প্রদান করে থাকে আর এটাকে বিভিন্নভাবে ব্যাবহার করা যায়। নিম্নের বলিঙ্গার ব্যান্ড ব্যাবহারের ২২ টি জনপ্রিয় প্রবাদ দেয়া হল:

১. বলিঙ্গার ব্যান্ড হাই এবং লো এর সীমানির্দেশনা দিয়ে থাকে। প্রাইস হাই হল আপার ব্যান্ডে আর প্রাইস লো হল লোয়ার ব্যান্ডে।
২. উপরের সংজ্ঞা দিয়ে আমারা প্রাইস এ্যাকশন এবং ইন্ডিকেটর এ্যাকশন এর মধ্যে তুলনা করতে পারি এবং যথাযথ বাই অথবা সেল করার ডিসিসন নিতে পারি।
৩. মার্কেটের উপযুক্ত দিক নির্দেশনা দেখতে মোমেন্টাম, ভলিউম, সেন্টিমেন্ট, ওপেন ইনট্রেস্ট, ইন্টারমার্কেট ডাটা ইত্যাদি সূচকের সাহায্য নিতে পারেন।
৪. যদি একটার বেশি ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করেন তাহলে লক্ষ্য রাখবেন যে ২ টা যেন একই ইঙ্গিত না দেয়। যেমন: একটা মোমেন্টাম ইন্ডিকেটর একটা ভলিউম ইন্ডিকেটরের অনুপুরক হিসেবে কাজ কাজ করতে পারে। সেক্ষেএে ২টা ইন্ডিকেটর ১ টা ইন্ডিকেটরের চেয়ে ভাল কাজ করবে।
৫. বলিঙ্গার ব্যান্ড প্রাইস এ্যাকশন প্যাটার্ন চিনতে সাহায্য করে। যেমন: " M" টপ এবং " W" বটম, মোমেন্টাম শিফট ইত্যাদি।
৬. প্রাইস আপার অথবা লোয়ার ব্যান্ড ছোয়া মানে সিগন্যাল পাওয়া না। প্রাইস আপার ব্যান্ডে টাচ করলেই সেল সিগন্যাল আসে না আবার প্রাইস লোয়ার ব্যান্ডে টাচ করা মানে বাই সিগন্যাল পাওয়া না।
৭. ট্রেন্ডিং মার্কেটে প্রাইস আপার বলিঙ্গার ব্যান্ড আপার অথবা লোয়ার ব্যন্ড ছোয়াটা স্বাভাবিক।
৮. বলিঙ্গার ব্যান্ডের বাইরে প্রাইস ক্লোজ হওয়া সাধারনত ট্রেন্ড সম্প্রসারনের ইঙ্গিত দেয়। (এটা অনেক ভলাটিলিটি ব্রেকআউট সিস্টেমের ভিওি হিসেবে কাজ করে থাকে।
৯. বলিঙ্গার ব্যান্ডের ডিফল্ট প্যারামিটারগুলো সাধারনত ব্যাবহার হয়ে এসেছে। প্যারামিটার বিভিন্ন মার্কেট কন্ডিশনের জন্য পরিবর্তন করে নিতে পারেন।
১০. মিডেল বলিঙ্গার ব্যান্ডটাকে ক্রসওভারের জন্য ব্যাবহার করা উচিত নয়। এটাকে মধ্যবর্তী টার্মের ট্রেন্ড নির্ধারনের জন্য ব্যাবহার করতে পারেন।
১১. উপযুক্তভাবে প্রাইস নিয়ন্ত্রনের জন্য: যদি ব্যান্ডের পেরিয়োড পরিবর্তন করেন তাহলে ডেভিয়েশনটাও সাথে সাথে পরিবর্তন করে নিবেন। যেমন: ২০ পেরিয়োড এবং ২ ডেভিয়েশন ডিফল্ট সেটিং, আপনি যদি ১০ পেরিয়োড করতে চান, তাহলে ডেভিয়েশন কমিয়ে ১.৯ করে দিন।
১২. ট্রেডিশনাল বলিঙ্গার ব্যান্ড সিম্পল মুভিং এ্যাভারেজের উপর ভিওি করে থাকে। এর কারন হল স্ট্যান্ডর্ড ডেভিয়েশন গননায় সিম্পল এ্যাভারেজ ব্যাবহার করা হয়েছে আর আমরা এটাকে লজিক্যালি সামঞ্জস্যপূর্নভাবে পরিচালনা করতে দেখতে চাই।
১৩. এক্সপোনেন্সিয়াল বলিঙ্গার ব্যান্ড বড় প্রাইস চেঞ্জের কারনে কিছুটা প্রস্থ কমিয়ে দিতে পারে। এক্সপোনেন্সিয়াল এ্যাভারেজ নিলে অবশ্যই মিডেল ব্যান্ড এবং স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন ২ টার গননার জন্যই ব্যাবহার করতে হবে।
১৪. যেহেতু বলিঙ্গার ব্যান্ড গননায় স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন ব্যাবহার করা হয়, সেই কারনে কোন স্ট্যাটিস্টিক্যাল ধারনা বলিঙ্গার ব্যান্ডে পোষন করতে যাবেন না। প্রাইস ডিসট্রিবিউশন অস্বাভাবিক আর যে স্যম্পল সাইজ বলিঙ্গার ব্যান্ডে ব্যাবহার করা হয় তা স্ট্যাটিস্টিক্যাল সিগনিফিক্যান্সের জন্য খুব ছোট। (চার্টে আমরা ডিফল্ট প্যারামিটার ব্যাবহার করে শতকরা ৯০%-৯৫% ভাগ সময় প্রাইসকে ব্যান্ডের ভিতর দেখতে পাই।)
১৫. % b আমাদের দেখায় যে আমরা বলিঙ্গার ব্যান্ডের তুলনায় কোথায় আছি। ব্যান্ডের মধ্যের অবস্থানটি Stochastics এর একটি ফর্মুলা ব্যাবহার কওে গননা করা হয়।
১৬. %b এর অনেক ব্যাবহার আছে। এদের মধ্যে বেশি দরকারী হল ডাইভারজেন্স চিহ্নিত করা, প্যাটার্ন চিহ্নিত করা এবং বলিঙ্গার ব্যান্ড ব্যাবহার করে ট্রেডিং সিস্টেম কোড করা।
১৭. কিছু fixed thresholds বাদ দিয়ে %b ইন্ডিকেটরকে নরমালাইজ করা যায়। এর জন্য ৫০ পেরিয়োড অথবা আরো বেশি পেরিয়োডের বলিঙ্গার ব্যান্ড একটা ইন্ডিকেটওে ব্যবহার করুন। এরপর ওই ইন্ডিকেটরের % b গননা করুন।
১৮. বলিঙ্গার ব্যান্ড কতটা প্রস্থ তা আমরা BandWidth দিয়ে দেখতে পাই। অপরিশোধিত প্রস্থটি মিডেল ব্যান্ড দিয়ে নরমালাইজ করা হয়। ডিফল্ট প্যারামিটারে BandWidth কোফিসিয়েন্ট অফ ভ্যারিয়েশনের ৪ গুন।
১৯. BandWidth এর অনেক ব্যবহার আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল স্কুইজ চিহ্নিত করা এবং ট্রেন্ড চেঞ্জ চিহ্নিত করা।
২০. বলিঙ্গার ব্যান্ড বিভিন্ন বিভিন্ন টাইম সিরিজে ব্যাবহার করা যায়। যেমন: - equities, indices, foreign exchange, commodities, futures, options এবং bonds.
২১. বলিঙ্গার ব্যান্ড বিভিন্ন টাইমফ্রেমে ব্যাবহার করা যায়। যেমন: ৫ মিনিট, ১ ঘন্টা, দৈনিক, সাপ্তাহিক ইত্যাদি। আসল হল যে প্রাইস বারগুলোর পর্যাপ্ত পরিমানে কার্যকলাপ থাকতে হবে যাতে বলিঙ্গার ব্যান্ড আপনাকে প্রাইস ফরমেশনের যথাযথ ধারনা দিতে পারে।
২২. বলিঙ্গার ব্যান্ড আপনাকে একটানা পরামর্শ দেয় না। এটা আপনাকে এমনসব সেটআপ বের করতে সাহায্য কওে যেখানে আপনার লাভের সম্ভবনা বেশি থাকে।

02 মুভিং এভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স


মুভিং এভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স (ম্যাকডি)

গ্যারাল্ড আপেল নামক একজন ম্যাকডি ইন্ডিকেটরটি ডেভেলপ করেছেন। গেরাল্ডের মতে ম্যাকডি ফাস্ট এবং স্লো মুভিং মার্কেটের জন্য উপযুক্ত একটি ইন্ডিকেটর। ম্যাকডি ২টা মুভিং এ্যাভারেজের মধ্যে তারতম্য দেখায়। যেহেতু এটার মুভমেন্ট প্রাইস মুভমেন্টের সাথে হয়ে থাকে তাই এটার কোন আপার অথবা লোয়ার লিমিট থাকে না।

ম্যাকডি সাধারনত ২ ধরনের হয়ে থাকে।


  • ১ লাইনের ম্যাকডি
  • ২ লইিনের ম্যাকডি

(নিম্নের চার্টে লাল লাইনকে সিগন্যাল লাইন বলে)


টু লাইন ম্যাকডি

১ লাইনের চেয়ে ২ লাইনের ম্যাকডিকে আপনাদের কাছে বেশি উপকারী বলে মনে হবে।  ম্যাকডি গননার সূএটি হল


ম্যাকডি সুত্র

ম্যাকডি দিয়ে ট্রেডিয়ে নিম্নোক্ত সিগন্যালগুলো অন্তর্ভূক্ত থাকে:

ম্যাকডি লাইন ক্রসওভার - যখন ম্যাকডি লাইন একটা আরেকটাকে ক্রস করে তখন ট্রেন্ড পরিবর্তনের সিগন্যাল দেয়।

ম্যাকডি হিস্টোগ্রাম ০ এর উপরে/নিচে - উপরে থাকলে বুলিশ মার্কেট আর নিচে থাকলে বিয়ারিশ মার্কেট।

ম্যাকডি হিস্টোগ্রাম ০ থেকে সরে গেলে - বর্তমান ট্রেন্ডের শক্তিশালী হওয়ার কনফারমেশন দেয়।

ম্যাকডি হিস্টোগ্রাম ডাইভারজেন্স - অতিসওর ঘটিত রিভার্সালের সংকেত দিয়ে থাকে। (ডাইভারজেন্স সম্পর্কে পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে।)



আগে বলেছিলাম যে ম্যাকডি ফাস্ট ও স্লো দুই মার্কেটের জন্য উপযোগী। গেরাল্ডের মতে স্ট্যান্ডার্ড সেটিং (১২,২৬,৯) মার্কেটে সবচেয়ে ভাল ফলাফল দিয়ে থাকে। আপনি যদি চান তাহলে ম্যাকডি নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখতে পারেন। ম্যাকডির অন্যান্য জনপ্রিয় সেটিং হল:


•    ৬,১২,৫
•    ৭,১০,৫,
•    ৫,১৩,৮

চলুন স্ট্যান্ডর্ড ম্যাকডি সেটিং (১২,২৬,৯) চার্টে কীভাবে থাকে তা দেখি:


ম্যাকডি ট্রেডিং


খাড়া গোল্ডেন লাইনগুলো যেই পয়েন্টে আকা সেই দিকে লক্ষ্য করুন:


  • ২ লাইন -  ম্যাকডি EMA ক্রসওভারের আগে ক্রস করে যা ট্রেড সিগন্যাল আগে দিয়ে থাকে।
  • ২ লাইন - ম্যাকডি লাইন ক্রস করে সেল সিগন্যাল দিয়েছে, কিন্তু এখানে বায়িং প্রেসার বেশি ছিল তাই এটা ফলস সিগন্যালে পরিনত হয়েছে। এই ক্ষেএে EMA আপনাকে ফলস সিগন্যাল দেয় নি।
  • ৩য় লাইন - ম্যাকডি EMA ক্রসওভারের আগে ক্রস করে যা ট্রেড সিগন্যাল আগে দিয়েছে।
  • ৪র্থ লাইন - ২য় পয়েন্টের ঘটনা আবার ঘটেছে।
  • ৫ম এবং ৬ষ্ঠ লাইনে ম্যাকডি ক্রসওভারে লসের সম্মুখীন হতে হত না।
  • ১ লাইনের ম্যাকডিটার দিকে লক্ষ্য করুন। আপনি ফলস সিগন্যাল কম দেখতে পাচ্ছেন। আবার ভাল একটা সিগন্যাল দেরিতে দেখতে পাচ্ছেন।

চার্টে আরো ২ টা জিনিস লক্ষ্য করুন। ২ লাইনের ম্যাকডি হিস্টোগ্রাম ০ এর উপরে নিচে যাচ্ছে যখন ফাস্ট EMA স্লো EMA কে ক্রস করছে। আর ১ লাইনের ম্যাকডি ০ এর উপরে নিচে যাচ্ছে যখন ২৬ EMA ১২ EMA কে ক্রস করছে।

এতক্ষনে আপনার বুঝতে পাচ্ছেন যে ম্যাকডি যত ভাল ইন্ডিকেটরই হোক না কেন, এটা ফলস সিগন্যাল থেকে আপনাকে বাচাতে পারবে না। ২ টা ইন্ডিকেটরেরই দুর্বলতা আছে যা আপনাকে অন্য কোন কিছু দিয়ে পূরন করতে হবে।

03 প্যারাবোলিক স্টপ এবং রিভার্সাল


প্যারাবোলিক স্টপ এবং রিভার্সাল (PSAR)

PSAR আমাদের ট্রেন্ডের শেষ এবং রিভার্সাল চিহ্নিত করতে সাহায্য করে থাকে। এটা এক্সিটের জন্য ব্যাবহার করা ভাল, এন্ট্রির জন্য না। (PSAR) ডট আকারে চার্টে দেখা যায়। যখন ডট প্রইসের নিচে দেখা যায়, তার মানে প্রাইস তখন উপরে যেতে পারে। যখন ডট প্রাইসের উপরে দেখা যায়, তার মানে প্রাইস নিচে নামতে পারে। চলুন চার্টে দেখি


প্যারাবোলিক স্টপ ও রিভার্সাল

PSAR চার্টে লাগালে বাই-সেলের জন্য সরচেয়ে সহজতম ইন্ডিকেটর মনে হবে। লক্ষ্য করুন যে চার্টে অনেকগুলো ডট দেখতে পারছেন যা আপনাদেরকে প্রাইস উপরে ওঠার অথবা নিচে নামার জন্য দ্রুত সিগন্যাল দিচ্ছে। চার্টে কিন্তু আবার ফলস সিগন্যাল ও আছে যা আপনি হয়ত খুশিতে লক্ষ্যই করেন নি। সেগুলো ভাল করে লক্ষ্য করুন। চার্টে আরো লক্ষ্য করুন যে ডটগুলোর মধ্যে মাঝে মাঝে ফাকা জায়গা বেশি আছে। এর মানে ট্রেন্ড চলাচল শুরু করে দিয়েছে আর আপনি সেটা মিস করেছেন। এখন বুঝছেন যে PSAR এন্ট্রির জন্য কেন ভাল ইন্ডিকেটর না?



আরেকটা কথা হল যে PSAR ফ্ল্যাট মার্কেটে কোন ফিল্টার করে না। এর মানে ডটগুলো আপনাকে ফলস সিগন্যাল দিবে। যা করতে পারেন তা হল যখন চার্টে ৩ টা ডট দেখা যায় তখন আপনি ট্রেন্ড শেষ হয়েছে তা আশা করতে পারেন। তখন আপনি যা করতে পারেন তা হল আপনার ট্রেডের স্টপ লস মডিফাই করতে পারেন অথবা ট্রেড ক্লোজ করে দিতে পারেন।


04 স্টোকাস্টিক


স্টোকাস্টিক 

স্টোকাস্টিক এর বাংলা হল সম্ভাব্যতার সূএাবলি। ট্রেন্ড কোথায় যেয়ে শেষ হবে, স্টোকাস্টিক আমাদের সেই ধারনা দিতে পারে। স্টোকাস্টিক এর ব্যাখ্যাকরন:


  • %k period - ফাস্ট লাইন
  • %D period – স্লো লাইন
  •  ট্রিগার লেভেল - ৮০ এর উপর এবং ২০ এর নিচে।

স্টোকাস্টিক মার্কেটে ওভারবট এবং ওভারসোল্ড কন্ডিশন নির্ধারন করতে সাহায্য করে। স্টোকাস্টিক দিয়ে যেসব তথ্য পাওয়া যায় তা হল:

স্টোকাস্টিক লাইন ক্রস - ট্রেন্ড পরিবর্তনের ইঙ্গিত করে থাকে।

স্টোকাস্টিক ৮০ লেভেলের উপরে - কারেন্সি পেয়ার ওভারবট।

স্টোকাস্টিক ৮০ লেভেলের উপরে মুভ করতে থাকলে - আপট্রেন্ড ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে।

স্টোকাস্টিক ৮০ লেভেল থেকে নিচে নামছে - ট্রেন্ডে কারেকশন অথবা ডাউনট্রেন্ডের শুরু আশা করতে পারেন।
স্টোকাস্টিক ২০ লেভেলের নিচে - কারেন্সি পেয়ার ওভারসোল্ড।

স্টোকাস্টিক ২০ লেভেলের নিচে মুভ করতে থাকলে - ডাউনট্রেন্ড ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে।

স্টোকাস্টিক ২০ লেভেল থেকে উপরে উঠছে - ট্রেন্ডে কারেকশন অথবা আপট্রেন্ডের শুরু আশা করতে পারেন।

আমরা ৩ পদ্ধতিতে স্টোকাস্টিক দিয়ে ট্রেড করতে পারি:
  • ক্রসওভার
  • ওভারসোল্ড এবং ওভারবট
  • ডাইভারজেন্স (পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে)



স্টোকাস্টিক ক্রসওভার

স্টোকাস্টিক ক্রসওভার মুভিং এ্যাভারেজ ক্রসওভারের মত কাজ করে থাকে। সেল সিগন্যাল দেয় যখন %k লাইন %D লাইনকে নিচের দিকে ক্রস করে। আর বাই সিগন্যাল দেয় যখন %k লাইন %D লাইনকে উপরের দিকে ক্রস করে। ট্রিগারলাইনে ক্রসওভার হলে সেটাকে শক্তিশালী সিগন্যাল হিসেবে ধরা হয়। যদি স্টোকাস্টিক ছোট টাইমফ্রেমে ব্যাবহার করা হয় তাহলে সেটাকে বারবার ক্রস করতে দেখা যাবে। ছোট টাইমফ্রেমে স্টোকাস্টিক ব্যাবহার না করাই ভাল। চলুন চার্টে যাই:


স্টোকাস্টিক ক্রসওভার

উপরের চার্টে ডিফল্ট সেটিং (৫,৩,৩) ব্যাবহার করা হয়েছে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে ট্রিগার লাইনের ক্রসওভার সিগন্যালগুলো আপনাদের লাভের আশংকা বাড়িয়ে দেয় আর ট্রিগার লাইনের বাইরে সেটা ফলস সিগন্যালে পরিনত হতে পারে।

ওভারসোল্ড এবং ওভারবট ট্রেডিং

যখন স্টোকাস্টিক ট্রিগার লাইন থেকে বের হয় তখন ট্রেডে এন্ট্রি অথবা এক্সিট করতে পারেন। ফ্ল্যাট মার্কেটে সাবধান থাকবেন। স্টোকাস্টিক সহজেই আপনাকে ফলস সিগন্যাল দিবে। আবার ফ্ল্যাট মার্কেট আপনাকে আসন্ন ট্রেন্ডের জন্য ধারনাও দিতে পারে। নিচের চার্টটি দেখুন:


স্টোকাস্টিক ট্রেডিং

উপরের চার্টে সবকিছু বিস্তারিত দেয়া হয়নি। যদি চার্টটি ভালভাবে এ্যানালাইজ না করে থাকেন তাহলে আবার করে দেখুন।


05 রিলেটিভ স্ট্রেনথ ইনডেক্স


রিলেটিভ স্ট্রেনথ ইনডেক্স (আরএসআই বা RSI)

রিলেটিভ স্ট্রেনথ ইনডেক্স (RSI) একটি মোমেন্টাম ইন্ডিকেটর। ওয়েলেস উইল্ডার এই ইন্ডিকেটরটি আবিষ্কার করেছিলেন। RSI নির্দিষ্ট টাইম পেরিয়োডের আপ ও ডাউন ক্লোজিং প্রাইসের তুলনা করে মুভ করে।

RSI এর ব্যাবহার

আপট্রেন্ড - যখন RSI ৫০ লেভেলের উপরে যায়।
ডাউনট্রেন্ড - যখন RSI ৫০ লেভেলের নিচে যায়।
RSI ৭০ লেভেলের উপরে - মার্কেট ওভারবট।
RSI ৭০ লেভেলের উপরে মুভ করা - আপট্রেন্ড ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে।
RSI ৭০ লেভেল থেকে নিচে নামছে - ডাউট্রেন্ডের আভাস অথবা ট্রেন্ড কারেকশন।
RSI ৩০ লেভেলের নিচে - মার্কেট ওভারসোল্ড।
RSI ৩০ লেভেলের নিচে মুভ করা - ডাউনট্রেন্ড ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে।
RSI ৩০ লেভেল থেকে উপরে - আপট্রেন্ডের আভাস অথবা ট্রেন্ড কারেকশন।

নিচের চার্টটিতে RSI এর ব্যাবহার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা বের করতে চেষ্টা করুন।


আরএসআই

ওভারবট/ওভারসোল্ড সবসময় সঠিক সিগন্যাল দেয় না। আপনার RSI সঠিকভাবে পড়তে হলে সিগন্যালকে ফিল্টার করতে হবে। যদি ওভারবট/ওভারসোল্ড ট্রেড করতে চান তাহলে RSI এর ওভারবট/ওভারসোল্ড বের হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভাল হবে। অনেক ট্রেডাররা আবার ৫০ লেভেল বাই সেল ডিসিসনের জন্য ব্যাবহার করে থাকে।
আমরা ৩ ভাবে RSI দিয়ে ট্রেড সিগন্যাল পেতে পারি:


  • ওভারবট/ওভারসোল্ড
  • RSI ট্রেন্ডলাইন
  • ডাইভারজেন্স (পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে)

06 এভারেজ ডায়রেকশনাল ইনডেক্স


এভারেজ ডায়রেকশনাল ইনডেক্স (এডিএক্স অথবা ADX)

জে উইলিস উইল্ডার নামক একজন ADX ইন্ডিকেটরটি উদ্ভাবন করেন এবং এটাকে উনি ওনার মেীলিক স্বার্থকতা হিসেবে বিবেচিত করেন। ADX ট্রেন্ডের উপস্থিতি অথবা অনুপস্থিতি দেখতে সাহায্য করে। অন্য কথায় ADX দিয়ে আপনি বুঝতে পারবেন যে ট্রেন্ড সম্প্রসারিত হবে নাকি থেমে যাবে। ADX সম্পর্কে আর একটা কথা, ADX একটি ল্যাগিং ইন্ডিকেটর।

(ADX) এর উপকরনসমূহ:


  • ADX লাইন
  • +DI
  • -DI 

ADX যা ব্যাখ্যা করে থাকে:

ADX ২০ লেভেলের নিচে - কোন ট্রেন্ড ফর্ম করছে না অথবা ট্রেন্ড এখন দুর্বল।
ADX ২০ লেভেলেন উপর - ট্রেন্ড এখন শক্তিশালী।
ADX ৪০ লেভেল পার করছে - ট্রেন্ড এখন তার চরম সীমানায় পেীছে গেছে।
ADX ভ্যালু যত বাড়বে - ট্রেন্ড তত শক্তিশালী
ADX ভ্যালু কমলে - ট্রেন্ড দুর্বল হওয়ার আভাস দেয়।
+DI যদি -DI এর উপরে যায় - আপট্রেন্ড
-DI যদি +DI এর উপরে যায় - ডাউনট্রেন্ড
 ২টা DI ক্রস - ট্রেন্ড পরিবর্তন হচ্ছে। (যদি DI ২০ লেভেলের নিচে থাকে তাহলে এই ধারনা বাদ দিতে হবে।)


এডিএক্স

উপরের চার্টে +DI এবং -DI ক্রস করেছে যেটা আপট্রেন্ডের সিগন্যাল দিচ্ছে আর DI ২০ লেভেলের নিচে ক্রস করেছে। তাহলে এটা ট্রেন্ড পরিবর্তনের জন্য নির্ভরযোগ্য সিগন্যাল দিচ্ছে না। পরবর্তীতে দেখতে পাচ্ছেন যে +DI ২০ লেভেলের বাইরে চলে এসেছে আর ADX লাইনও উপরের দিকে যাচ্ছে যা ট্রেন্ড সম্প্রসারনের সংকেত দিচ্ছে। তারপর ADX লাইনটা ৪০ লেভেলও ক্রস করল। যখন ADX ৪০ লেভেলের দিকে যায় তখন আমাদের ট্রেড থেকে এক্সিট অথবা স্টপ লস মডিফাই করার চিন্তা করা উচিত।

তারপর দেখতে পাচ্ছি যে প্রাইস ফ্ল্যাট মুভমেন্ট নিয়েছে আর সাথেসাথে ADX এর ভ্যালুও কমছে। এরপর দেখতে পাচ্ছি যে DI ২টা কয়েকবার ক্রস করেছে। আর সেটা হয়েছে ২০ লেভেলের কাছাকাছি যেখানে ট্রেন্ড নিস্তব্দ থাকে। কিন্তু যদি সেল এন্ট্রি করতেন তাহলে কিন্তু লাভেই থাকতেন।



আপনাদেরকে আগে বলেছিলাম যে ADX একটি ল্যাগিং ইন্ডিকেটর আর আপনাদের দেরিতে সিগন্যাল দিবে। ADX দিয়ে ট্রেড করা ভাল বুদ্ধি নয়। ADX এর সাথে আরো ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করে তারপর সেটা থেকে ভাল সিগন্যাল পাওয়ার চেষ্টা করলে ফলাফল অনেক ভাল পাওয়া যেতে পারে।


07 ইচিমকু কিনকো হিয়ো


ইচিমকু কিনকো হিয়ো (আইকেএইচ অথবা IKH)

নাম দিয়েই বোঝা যাচ্ছে যে আমরা নাচ শেখার প্রস্তুতি নেব। চলুন শুরু করি।

ইচিমোকু কিনকো হিয়ো একটি শক্তিশালী ইন্ডিকেটর আর এটা নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ন ট্রেডিং সিস্টেম।

IKH এর অর্থ হল:


  • ইচিমোকু - এক নজর (a glance)
  • কিনকো – ভারসম্য (equilibrium)
  • হিয়ো – চার্ট (chart)

সব একসাথে করলে হয় - ইচিমোকু কিনকো হিয়ো = এক নজরে চার্টের ভারসম্য।

আপনি হয়ত মনে মনে বলতে পারেন যে এত কাজের ইন্ডিকেটর, না জানি দেখতে কত সুন্দর হয়। চলুন তাহলে আমরা IKH চার্টে লাগিয়ে দেখি:


আইকেএইচ

যদি নিরাশ হয়ে থাকেন তাহলে মনে রাখবেন যে চকচক করলেই সোনা হয় না। চার্টে আপনার পরবর্তী মুভমেন্টের তথ্য দরকার আর সেটা আপনি যেভাবে পেতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটাই ভালো।



IKH এর উপাদানসমূহ আর যেভাবে IKH গননা করা হয়:

কিজুন সেন (নীল লাইন) - এটাকে স্ট্যান্ডার্ড লাইন অথবা বেস লাইন ও বলা হয়ে থাকে।
সূএ: HIGHEST HIGH + LOWEST LOW)/2 for the past 26 periods
তেকান সেন (লাল লাইন) - এটাকে টার্নিং লাইন ও বলা হয়ে থাকে।
সূএ: (HIGHEST HIGH + LOWEST LOW)/2 for the past 9 periods
চিকউ স্পান (লাইম) - এটাকে ল্যাগিং লাইনও বলা হয়ে থাকে। এটা আজকের ক্লোজিং প্রাইস ২৬ পিরিয়োড আগে ড্র করে।

সেনকউ স্পান এ - ১ম লিডিং লাইন
সূএ: (TENKAN SEN + KIJUN SEN)/2 time-shifted forwards (into the future) 26 periods
সেনকউ স্পান বি - ২য় লিডিং লাইন
সূএ: (HIGHEST HIGH + LOWEST LOW)/2 for the past 52 periods time-shifted forwards (into the future) 26 periods
সেনকউ স্পান “এ” এবং “বি” মিলে “কুমো ক্লাউড” ফর্ম করে। নিম্নের চার্টটি দেখুন:


তেকান সেন


প্রতিটা লাইনকে যখন ব্যাখ্যা করা হয়, তখন প্রতিটা ভিন্ন ভিন্ন ধারনা দেয়। চলুন দেখি:

সেনকউ স্পান  

প্রাইস যখন ক্লাউডের উপরে থাকে তখন ১ম লাইনটা ১ম সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে আর ২য় লাইনটা ২য় সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে।

প্রাইস যখন ক্লাউডের নিচে থাকে তখন ১ম লাইনটা ১ম রেজিস্টেন্স হিসেবে কাজ করে আর ২য় লাইনটা ২য় রেজিস্টেন্স হিসেবে কাজ করে।

কিজুন সেন

ভবিষ্যতের প্রাইম বার্তা হিসেবে কাজ করে। যখন প্রাইস লাইনের উপরে যায়, প্রাইস আরো উপরে যেতে পারে। যখন প্রাইস লাইনের নিচে যায়, তখন প্রাইস নিচে যেতে পারে।

তেকান সেন

মার্কেট ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর। লাইন উপরে গেলে আপট্রেন্ডের সংকেত দেয়। লাইন নিচে গেলে ডাউনট্রেন্ডের সংকেত দেয়। সমান্তরাল লাইন মানে ফ্ল্যাট মার্কেট।

চিকউ স্পান

সেল সিগন্যাল - যদি বর্তমান প্রাইস বিগত ২৬ পেরিয়োডের নিচে থাকে।
বাই সিগন্যাল - যদি বর্তমান প্রাইস বিগত ২৬ পেরিয়োডের উপরে থাকে।

IKH দিয়ে ট্রেডের স্ট্রাটেজি সমূহ


  • তেকান সেন/কিজুন সেন ক্রস
  • কিজুন সেন/প্রইস ক্রস
  • কুমো ব্রেকআউট
  • সেনকউ স্পান ক্রস
  • চিকউ স্পান ক্রস

ব্যাস এতটুকুই থাক। অনেক বলে ফেলেছি। আপনি হয়ত এতক্ষনে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গিয়েছেন। শেষমেশ একটা চার্ট দিয়ে শেষ করি।


08 অসসিলিয়েটর এবং মোমেন্টাম


অসসিলিয়েটর এবং মোমেন্টাম (Oscilliator & Momentum)

এতক্ষণ আমরা বিভিন্ন ধরনের ইন্ডিকেটরের ব্যবহার দেখলাম। এই ইন্ডিকেটরগুলকে আমরা ২ ভাগে ভাগ করতে পারি। সেগুলো হলঃ

১. লিডিং ইন্ডিকেটর (Oscillators)
২. ল্যাগিং ইন্ডিকেটর (Momentum)

১. লিডিং ইন্ডিকেটর

লিডিং ইন্ডিকেটর আমাদের ট্রেন্ড শুরু হওয়ার আগে আমাদের সংকেত দিয়ে থাকে। আর আমরা জানি যে ইন্ডিকেটর অনেক সময় ফালস সিগন্যাল দেয়। আর লিডিং ইন্ডিকেটরের ক্ষেত্রে এটা বেশি প্রযোজ্য।

লিডিং ইন্ডিকেটর অথবা Oscillators আপনাকে বাই অথবা সেল করার সংকেত দিয়ে থাকে। মনে আছে আমরা প্যারাবলিক SAR, স্টকাস্টিক, আরএসআই ব্যবহার করেছিলাম? ওগুলো Oscillators ছিল। সেগুল আমাদের সম্ভাব্য রিভারসাল, ট্রেন্ডের স্থায়িত্ব এবং প্রাইস তার গতিধারা বদলাবে কিনা, তার সংকেত দিয়ে থাকে। একটা উদাহরন দেখিঃ


অসসিলিয়েটর

উপরের উদাহরনেঃ

- স্টকাস্টিক হাই/লো এর উপর ভিত্তি করে লাইন অঙ্কন করে।
- আরএসআই ক্লোজিং প্রাইসের উপর ভিত্তি করে গননা করা হয়।
- প্যারাবলিক SAR এর নিজস্ব গননা করার পদ্ধতি আছে।

এখানে যা বলতে চাচ্ছি তা হল, একটা ইন্ডিকেটর নির্দিষ্ট প্রাইস মুভমেন্টের উপর রিয়াক্ট করে। কোনো ইন্ডিকেটর বাবহারের পূর্বে সেই ইন্ডিকেটরের স্বভাব জানুন।



২. ল্যাগিং ইন্ডিকেটর

ল্যাগিং ইন্ডিকেটর ট্রেন্ড শুরু হাওয়ার পরে আমাদের সিগন্যাল দেয়। ল্যাগিং ইন্ডিকেটর ধিরগতিতে সিগন্যাল দেয় বিধায় তুলনামুলকভাগে সঠিক সিগন্যাল দেয়। কিন্তু আবার বড়বড় মুভমেন্ট ট্রেন্ডের সুরুতে হয়ে থাকে আর ল্যাগিং ইন্ডিকেটরের কারনে তা হাতছারা হয়ে যেতে পারে।

Momentum ইন্ডিকেটর হিসেবে আমরা মুভিং এভারেজ, আরএসআই, এডিএক্স এগুলোকে ধরতে পারি। এগুলো ধীরগতিতে মুভ করে আর আমাদের অতিতে ঘটিত কাহিনী বলে থাকে। তথায় ভুল হাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। একটা উদাহরণঃ


মোমেন্টাম


উপরের চার্টে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, Oscillators ও Momentum দুইটাই সময়তে আপনাকে ঠিক সিগন্যাল দিবে আবার একটা ফলস সিগন্যাল দিবে। আবার সময়তে দুইটাই ফলস সিগন্যাল দিবে।

ইন্ডিকেটর পূর্বের প্রাইস থেকে ডাটা নিয়ে কাজ করে আর সেটা দিয়ে আপনাকে নতুন ডাটা দেখায় যা আপনাকে ভবিষ্যৎ প্রাইস মুভমেন্ট নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। আপনি ইন্ডিকেটর কিভাবে ব্যবহার করবেন সেটা আপনার উপর নির্ভর করে।

আপনার মনে হয়তো একটা প্রশ্ন জেগেছিল যে, আরএসআইকে আমি লিডিং এবং ল্যাগিং ইন্ডিকেটর দুইটার জন্যই উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছি। এখন কি উত্তরটা পেয়েছেন?
কুমো ক্লাউড

No comments:

Post a Comment

Golden Rules of Forex/10th NOVEMBER- 2017.

Date:30th  October 2017. Golden Rules of Forex Must check this lin before trade ----- USD DOLAR INDEX CHECK REGULAR FROM THIS L...