ট্রেডিং সেশন
চারটা সেশন যখন শুরু হয়, তখন মার্কেটে অনেক ভোলাটিলিটি শুরু হয়। এর কারন হল একটি সেশন ওপেন হলেই সেই অঞ্চলে অনেক ব্যবসা-বানিজ্য, লেন-দেন ইত্যাদি শুরু হয়। অর্থনীতি সম্পর্কে বড় বড় নিউজ-সিদ্ধান্ত ঐ সময়েই নেয়া হয় অধিকাংশ সময়ে। তাই নতুন সেশন শুরু হলেই মার্কেটে বড়-সড় মুভমেন্ট/নড়াচড়া শুরু হয়ে যায়। নিচের চার্টটি ওকে দেখিয়ে বললাম যে কোন সেশন কখন শুরু এবং শেষ হয়।
ত্রিভুজ এবার বলল, গ্রীষ্মকাল (summer) আর শীতকালে (winter) ভিন্ন সময়ে সেশন ওপেন হয় কেন? আমি তাকে বললাম DST (Day-Light Saving Time) এর কথা মনে আছে যেটা বাংলাদেশে কয়েক বছর আগে চালু হয়েছিল? ত্রিভুজ বলল, হ্যা। তখন তো আমাদের সময় আমরা ১ ঘণ্টা এগিয়ে দিয়েছিলাম। এবার আমি বললাম, পৃথিবীর বড় বড় দেশগুলোও তাদের কাজের সময় বৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্মকাল এবং শীতকালে ১ ঘণ্টা সময় পরিবর্তন করে। আর সে কারনেই আমাদের এখানেও বাংলাদেশ সময় অনুসারে সেশনগুলো ওপেন-ক্লোজের সময় পরিবর্তন হয়। এখানে BST দিয়ে Bangladesh Standard Time বোঝানো হয়েছে।
এবার ত্রিভুজ আমাকে বলল, যেকোনো সেশন ওপেন হলে যেহুতু মার্কেটে ভোলাটিলিটি বেড়ে যায়, ২টা সেশন একসাথে ওপেন থাকলে নিশ্চয়ই ভোলাটিলিটি আরও বেশি থাকে, মানে মুভমেন্ট আরও বেশি হয়?
এবার আমি বুঝলাম যে আমার বন্ধু আস্তে আস্তে ব্যাপারটা বুঝতে পারছে। আমি তাকে বললাম হ্যা, ব্যাপারটা ঠিক এইরকম। গ্রীষ্মকালে দুপুর ১:০০ থেকে দুপুর ৩:০০ পর্যন্ত টকিয়ো ও লন্ডন সেশন ওভারল্যাপ করে এবং সন্ধ্যা ৬:০০ থেকে রাত ১০:০০ পর্যন্ত লন্ডন ও নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপ করে। তাই এই সময়ে মুভমেন্টও থাকে বেশি। ট্রেড করার জন্য মোটামুটি আদর্শ সময়।
এবার আমি ত্রিভুজকে এই চার্টটি দেখিয়ে বললাম যে কোন সেশনে কোন পেয়ারের এভারেজ মুভমেন্ট কত পিপস। দেখা যায় লন্ডন সেশনেই সবচেয়ে বেশি মুভমেন্ট দেখা যায়। আর যেহুতু নিউইয়র্ক সেশন লন্ডন সেশনের সাথে ৪ ঘণ্টা ওভারল্যাপ করে, সেহুতু লন্ডন এবং নিউইয়র্ক এই ২টি সেশন ট্রেড করার জন্য আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
এবার ত্রিভুজ আমাকে বলল ফরেক্স সেশনগুলো সম্পর্কে তাকে একটু বিস্তারিত ধারনা দিতে। ভাবলাম টকিয়ো সেশন দিয়েই তাহলে শুরু করা যাক।
টকিয়ো সেশন
বাংলাদেশ সময় ভোর ৬:০০ টায় টকিয়ো সেশন শুরু হয় এবং দুপুর ৩:০০ টায় টকিয়ো সেশন শেষ হয়। টকিয়ো সেশন এশিয়ান সেশন নামেও পরিচিত, কারন টকিয়ো হল এশিয়ার অর্থনৈতিক রাজধানী। আর জাপান হল পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম ফরেক্স ট্রেডিং সেন্টার। জাপানিজ ইয়েন হল পৃথিবীর ৩য় সর্বাধিক ট্রেডকৃত কারেন্সি। সব ফরেক্স লেনদেনের ১৬.৫০% লেনদেন হয় ইয়েনের। এবং সকল ফরেক্স লেনদেনের ২১% হয় এই টকিয়ো সেশনে।টকিয়ো সেশনের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আমি ওকে বলেছিলাম। সেগুলো হলঃ
- এই সেশনের যে শুধু জাপানের অবদান থাকে তাই নয়, হংকং, সিঙ্গাপুর, সিডনী ইত্যাদি অঞ্ছলেও অনেক অর্থনৈতিক লেনদেন হয় যা এই সেশনে প্রভাব ফেলে।
- জাপান মূলত রপ্তানি নির্ভর দেশ। চায়নারও এখানে ভালো অবদান রয়েছে। কেন্দ্রিয় ব্যাংক এবং এক্সপোর্টাররা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
- মাঝে মাঝে মার্কেটে ভোলাটিলিটি এতও কমে যায় যে ট্রেডারদেরকে ট্রেড করার জন্য মাছ ধরার বরশি নিয়ে অপেক্ষা করার মত বসে থাকতে হয়।
- মূলত এশিয়ান পেয়ারগুলোতে অন্য পেয়ারগুলোর তুলনায় বেশি মুভমেন্ট দেখা যায়। যেমন eur/usd, gbp/usd এর তুলনায় aud/usd, nzd/usd তে মুভমেন্ট বেশি হয়।
- এই কম ভোলাটিলিটির সময় বেশিরভাগ পেয়ার একটি রেঞ্জের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, যা কিনা দিনের পরবর্তী সময়ে ব্রেকআউট ট্রেডের সুযোগ সৃষ্টি করে।
- এই সেশনের শুরুতেই সাধারনত মুভমেন্ট বেশি হয়, কারন তখনই অর্থনৈতিক নিউজগুলো বেশি পাবলিশ হয়।
- টকিয়ো সেশনের মুভমেন্ট দেখেই ট্রেডাররা সাধারনত পরবর্তী সেশনে ট্রেড করার স্ট্রাটেজি ঠিক করে।
এবার ত্রিভুজ বলল, অনেক কিছু জানা গেল। কিন্তু টকিয়ো সেশনে কোন কোন পেয়ার গুলো ট্রেড করার জন্য ভালো হবে? এই সেশনে তো অন্যান্য পেয়ারগুলো থেকে এশিয়ান পেয়ারগুলোতে মুভমেন্ট বেশি হয়। তাহলে আমাদের সেইসব পেয়ার ট্রেড করা উচিত?
টকিয়ো সেশনে অস্ট্রেলিয়া, নিউজল্যান্ড, জাপানের গুরুত্বপূর্ণ নিউজ পাবলিশ হয়। এরফলে নিউজ ট্রেড করার একটু ভালো সুযোগ পাওয়া যায়। JPY পেয়ারগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যায়। চায়না কিন্তু আরেকটি অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ার। তাই যখনই চায়না থেকে গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশিত হয়, তা ফরেক্স মার্কেটে ভালো ভোলাটিলিটি সৃষ্টি করে। টকিয়ো সেশনে JPY এবং AUD পেয়ারে ভালো মুভমেন্ট দেখা যায়। তাই এই পেয়ারগুলো ট্রেড করার জন্য উত্তম।
লন্ডন সেশন
যখন এশিয়ান মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, তার কিছুক্ষন পরই লন্ডন সেশন শুরু হয়। লন্ডন সেশন ইউরোপিয়ান সেশন নামেও পরিচিত। ইউরোপে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মার্কেট রয়েছে, যদিও ট্রেডারদের চোখ বেশিরভাগ সময় থাকে লন্ডনের দিকে। গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১:০০ (শীতকালে দুপুর ২:০০) - টায় লন্ডন সেশন শুরু হয় এবং গ্রীষ্মকালে রাত ১০:০০ (শীতকালে রাত ১১:০০) - টায় লন্ডন সেশন শেষ হয়।ঐতিহাসিকভাবেই লন্ডন ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতি মিনিটেই হাজার হাজার ব্যবসায়ী এখানে লেনদেন করে। সর্বমোট লেনদেনের ৩০% হয়য় শুধুমাত্র এই লন্ডন সেশনেই।
টকিয়ো সেশনের মত লন্ডন সেশনেরও কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হলঃ
- লন্ডন সেশন ২টি গুরুত্বপূর্ণ সেশনের সাথে (টকিয়ো এবং নিউইয়র্ক) ওভারল্যাপ করে। অসংখ্য ফরেক্স লেনদেন এই সেশনে ঘটে। তাই দেখা যায় এই সময়ে মার্কেটে লিকুইডিটিও থাকে বেশি এবং পেয়ারগুলোতে স্প্রেডও থাকে তুলনামুলক ভাবে কম।
- অসংখ্য লেনদেন এবং ট্রেড হবার কারনে লন্ডন সেশন হল সবচেয়ে বেশি ভোলাটাইল সেশন
- দেখা যায় অধিকাংশ ট্রেন্ড লন্ডন সেশনে শুরু হয়য় এবং নিউইয়র্ক সেশনের শুরু পর্যন্ত চলতে থাকে।
- এই সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ভোলাটিলিটি কিছুটা কমে যায়, কারন ট্রেডাররা নিউইয়র্ক সেশন শুরুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
- অনেকসময় দেখা যায় লন্ডন সেশনের শেষের দিকে ট্রেন্ড রিভার্স হয়ে যায়। কারন ইউরোপিয়ান ট্রেডাররা দিনশেষের আগে তাদের ট্রেড প্রফিতে ক্লোজ করে দিতে চায়।
এবার ত্রিভুজ আমাকে প্রশ্ন করলো, নিশ্চয়ই লন্ডন সেশনে ইউরো আর পাউন্ডের পেয়ার গুলো ট্রেড করার জন্য ভাল? আমি তাকে উত্তর দিলাম যেহুতু লন্ডন সেশনে অনেক বেশি ট্রেড হয়য়, তাই দেখা যায় এই সেশনে অনেক বেশি লিকুইডিটি থাকার কারনে প্রায় সব পেয়ারেই ট্রেড করা যায়। অবশ্যই মেজর পেয়ারগুলো ট্রেড করা জন্য ভালো যেমন - EUR/USD, GBP/USD, USD/JPY, USD/CHF, কারনে সেগুলোতে স্প্রেড কম থাকে। এবং এই পেয়ারগুলো দেখা ইউরোপিয়ান সেশনে যে নিউজগুলো আসে সেগুলো দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হয়। এছাড়া ইয়েন ক্রস পেয়ারগুলোও ট্রেড করা যায় বিশেষ করে EUR/JPY এবং GBP/JPY, কারন এই পেয়ারগুলো তখন কিছুটা ভোলাটাইল থাকে।
নিউইয়র্ক সেশন
লন্ডন সেশন চলতে চলতে যখন মার্কেটের ভোলাটিলিটি কিছুটা স্থির হয়ে আসে, তখন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬:০০ (শীতকালে সন্ধ্যা ৭:০০) - টায় নিউইয়র্ক সেশন শুরু হয় এবং গ্রীষ্মকালে রাত ৩:০০ (শীতকালে রাত ৪:০০) - টায় নিউইয়র্ক সেশন শেষ হয়। এশিয়া এবং ইউরোপের মত, আমেরিকাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরেক্স মার্কেট। সব ট্রেডারদের দৃষ্টি থাকে নিউইয়র্ক সেশনের দিকে। নিউইয়র্ক সেশন আমেরিকান সেশন নামেও পরিচিত।নিউইয়র্ক সেশনের বৈশিষ্ট্যগুলো হলঃ
- যেহুতু এই সেশনটি লন্ডন সেশনের সাথে ওভারল্যাপ করে, তাই এই সেশনের শুরুতে মার্কেটে লিকুইডিটি বেশি থাকে।
- অধিকাংশ অর্থনৈতিক রিপোর্ট এবং নিউজ এই সময়ে প্রকাশ হয়। প্রায় ৮৫% ট্রেডগুলোই ডলার এর সাথে কোনো না কোন ভাবে সম্পর্কিত। তাই যখন কোন আমেরিকান ইকনোমিক ডাটা রিলিজ হয়, তা মার্কেটকে মুভ করাতে যথেষ্ট ভুমিকা পালন করতে সক্ষম।
- লন্ডন সেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর, নিউইয়র্ক সেশনের শেষের দিকে মার্কেটে ভলাটিলিটি এবং লিকুইডিটি অনেক কমে যায়। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত মুভমেন্ট প্রায় থাকেনা বললেই চলে।
- শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাতের দিকে মার্কেট প্রায় শান্ত হয়ে যায়। কারন পরেরদিন মার্কেট অফ থাকার কারনে জন্য মার্কেটে ভোলাটিলিটি অনেক কম থাকে।
- শুক্রবারে নিউইয়র্ক সেশনের মাঝামাঝি সময়ে অনেক সময় প্রাইস রিভারস করতে দেখা যায়। কারন অনেক ট্রেডাররা মার্কেট হলিডের সময় কোন নিউজের প্রভাব উপেক্ষা করার জন্য সপ্তাহ শেষ হবার আগেই ট্রেড ক্লোজ করে দেয়।
ত্রিভুজ আমাকে বলল, যেহুতু এই সেশনে মার্কেটে ভোলাটিলিটি অনেক বেশি থাকে, তাই নিশ্চয়ই প্রায় সব পেয়ারই ট্রেড করা যায়? আমি বুঝতে পারলাম ত্রিভুজ ফরেক্স মার্কেটের ট্রেডিং সেশনগুলো সম্পর্কে ভালো ধারনা অর্জন করে ফেলেছে। আমি তাকে বললাম ঠিক তাই। এই সেশনে প্রায় সব পেয়ারই ট্রেড করা যায়, কারন ভালো মুভমেন্ট থাকে। আর এই সেশনে ডলারের বিভিন্ন ফান্ডামেন্টাল ডাটা রিলিজ হওয়ার কারনে দেখা যায় সবাই নিউজগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকে, কারন সবাই ডলার ভালবাসে। আর এই নিউজগুলো খারাপ আসুক কিংবা প্রত্যাশিত আসুক, ডলারের লাফালাফির কারনে তা মার্কেটকে নাটকীয়ভাবে প্রচণ্ড নাড়া দিতে পারে।
সেশনের ওপর সেশন - সেশন ওভারল্যাপঃ
ত্রিভুজ আমাকে প্রশ্ন করলো দিনের মধ্যে ট্রেড করার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি? এবার আমি ত্রিভুজকে জিজ্ঞেস করলাম, বলতো টেলিভিশনে সবচেয়ে ভালো প্রোগ্রামগুলো কখন দেখায়? ত্রিভুজ উত্তর দিল- "ফ্যামিলি টাইম". আমি বললাম ঠিক তাই। কিন্তু কারণটা কি? ত্রিভুজ আমাকে উত্তর দিল কারন সেই সময়ে পরিবারের সবাই মিলে একসাথে টেলিভিশন দেখে, তাই ভালো প্রোগ্রামগুলো প্রচার করা হয়। আমি তাকে বললাম ঠিক তাই। ফরেক্স মার্কেটের ক্ষেত্রেও একই রকম। মার্কেটে যখন ২টি সেশন ওভারল্যাপ করে, তখন মার্কেটে মুভমেন্টও বেশি হয়, তাই ট্রেড করার সুযোগও থাকে বেশি।ফরেক্স মার্কেটে ২টি প্রধান সেশন ওভার ল্যাপ হলঃ
- টকিয়ো-লন্ডন সেশন ওভারল্যাপ
- লন্ডন-নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপ
টকিয়ো-লন্ডন সেশন ওভারল্যাপঃ
টকিয়ো সেশনে মুভমেন্ট অন্য সেশনগুলোর তুলনায় খুব একটা বেশি হয়না। আর টকিয়ো-লন্ডন সেশন যখন ওভারল্যাপ করে, তখন টকিয়ো সময় অনেকটা বিকেল তাই মুভমেন্ট কমই থাকে। ট্রেড করার জন্য এই সময়টা কিছুটা বোরিং লাগতে পারে। অনেক নতুন ট্রেন্ড তৈরি হয় এই সময়ে, কিন্তু অনেক ট্রেডাররাই ট্রেন্ড কনফারমেশনের জন্য লন্ডন-নিউইয়র্ক সেশনের জন্য অপেক্ষা করে।লন্ডন-নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপঃ
এই সেশন ওভারল্যাপ হল ট্রেড করার সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময় ট্রেডাররা সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে মার্কেটের দিকে মনোনিবেশ করে। এই সেশন ওভারল্যাপ হল দিনের সবচেয়ে ব্যাস্ত সময়, কারন ২টি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ট্রেডিং সেন্টার লন্ডন এবং নিউইয়র্ক এই সময় ওপেন থাকে।এই সময় মার্কেটে অনেক বড় বড় মুভমেন্ট দেখা যায় বিশেষ করে যখন আমেরিকা এবং কানাডা থেকে নিউজ-রিপোর্টগুলো প্রকাশিত হয়। ইউরোপ থেকে দেরিতে প্রকাশ হওয়া নিউজগুলোও ভালো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। যদি লন্ডন সেশনে কোন ট্রেন্ড তৈরি হয়, তবে বেশিরভাগ সময় নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপের সময় তা কন্টিনিউ করতে দেখি। কারন আমেরিকান ট্রেডাররা সেদিন আগে কি হয়েছিল তা জেনে ট্রেড করতে ঝাপিয়ে পড়ে এবং অধিকাংশ সময় পূর্বের ট্রেন্ড অনুসরন করে। এই সেশন ওভারল্যাপ শেষ হবার পর পরই দেখা যায় মার্কেটে মুভমেন্ট অনেক কমে যায়, কারন অনেক ইউরোপিয়ান ট্রেডাররা দিনশেষে তাদের ট্রেড ক্লোজ করে দেয়।
ট্রেড করার জন্য সপ্তাহের সেরা দিনগুলোঃ
ত্রিভুজ আমাকে বলল, সবশেষে যা বোঝা গেল, তা হল লন্ডন সেশনই হল ফরেক্স মার্কেটের সবচেয়ে ব্যাস্ততম সেশন। আর তারসাথে যদি নিউইয়র্ক সেশন ওভারল্যাপ করে, তবে তো কথাই নেই। কিন্তু ট্রেড করার জন্য কি বিশেষ কোন ভালো দিন রয়েছে? আমি তাকে বললাম হ্যাঁ। কিছু বিশেষ দিন রয়েছে যে দিনগুলোতে মার্কেট অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু বেশীই মুভ করে।সময়কে সঠিকভাবে ম্যানেজ করাঃ
আমি এবার ত্রিভুজকে বললাম নিশ্চয়ই এবার ফরেক্স সেশনগুলো সম্পর্কে ধারনা পরিস্কার হয়েছে? ত্রিভুজ উত্তর দিল, হ্যাঁ। এখন থেকে আমি সব ফরেক্স সেশন এবং সেশন ওভারল্যাপের দিকে নজর রাখব। আমি তাকে বললাম আমরা তো ভ্যাম্পায়ার নই যে সব সেশনগুলোতেই ট্রেড করতে পারবো। আর যদি পারি, কেনই বা করবো? ফরেক্স মার্কেট ২৪ ঘন্টা ওপেন থাকে তার মানে এই নয় যে ২৪ ঘণ্টাই ভালো মুভমেন্ট থাকে। আর যদি থাকেই, কেনই বা আমরা সবসময় ট্রেড করবো? আমাদের শুধু ভালো ট্রেডের সুযোগ পেলেই ট্রেড করা উচিত।আমাদের সুস্থভাবে জীবন-যাপনের জন্য বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন। সবসময় ট্রেড করার জন্য কম্পিউটারের সামনে না বসে মাঝে মাঝে সবাই মিলে বাইরে ঘুরতে এবং খেতে যাওয়া উচিত। ত্রিভুজ আমাকে বলেছে সে ফরেক্স থেকে প্রথম প্রফিট যেদিন করবে, সেদিন আমাকে ভালো রেস্টুরেন্টে ব্যুফে খাওয়াবে। আর আপনারাও যদি ত্রিভুজকে ফরেক্স সম্পর্কে বোঝানোর ফাকে কিছু শিখে ফেলতে পারেন এবং তা দিয়ে প্রফিট করতে পারেন, তবে আমাকে ভুলে যাবেননা কিন্তু!
01 ট্রেডিং সেশন
ট্রেডিং সেশন (Trading Session)
এখন আপনি জানেন যে ফরেক্স কি, কেন ট্রেড করা উচিত এবং কিভাবে ফরেক্স মার্কেট পরিচালিত হয়। এখন দেখি যে কখন ট্রেড করা যায়।
এটা সত্য যে, ফরেক্স মার্কেট ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সর্বদাই একটিভ থাকে।
আপনি মার্কেটে তখন ট্রেড করেন যখন আপনি মনে করেন যে, কারেন্সীর মূল্য বাড়বে অথবা কমবে। কিন্তু যখন মার্কেট বেশী মুভ করবেনা তখন ট্রেড করা আপানার জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হতে পারে।
বিশ্বাস করেন আর না করেন, এমন কিছু সময় আছে যখন মার্কেট একবারে মুভ করে না। কোন সময় ট্রেড করার উপযোগী এই সেকশনে আমরা তা দেখবো।
মার্কেটের সময়সূচী (Market hours)
আমদের আগে জানা উচিত যে, ২৪ ঘন্টার মার্কেট কিভাবে পরিচালিত হয়। ফরেক্স মার্কেটকে ৪টি ট্রেডিং সেশনে ভাগ করা যায়। নিম্নের টেবিলটি দেখুন
লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন যে, ২টা ট্রেডিং সেশনের এক পর্যায়ে ২টি মার্কেট খোলা থাকে।
সাধারনত ঐসব হলো ব্যাস্ততম সময় বানিজ্যক দিনে কারন সেখানে অনেক ভলিউম ট্রেড হয় যখন দুটি মার্কেট একই সময়ে খোলা থাকে। মার্কেটের সকল অংশগ্রহনকারী কাজকর্মে লিপ্ত হয় যার মানে অনেক অর্থ আদান প্রদান হয়।
এখন আপনি হয়তো সিডনীর ওপেনের দিকে নজর দিয়েছেন আর চিন্তা করছেন যে এটা ২ ঘণ্টা শিফট করেছে কেন। চিন্তা করতে পারেন যে সিডনী ওপেন ১ ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে যখন US যখন স্ট্যান্ডার্ড টাইম অ্যাডজাস্ট করে, কিন্তু মনে রাখবেন যখন US তাদের সময় ১ ঘণ্টা পিছিয়ে নেয় তখন সিডনী ১ ঘণ্টা সামনে যায় (অস্ট্রেলিয়াতে ঋতু উল্টা)।
চলুন দেখি যে মেজর ট্রেডিং সেশনগুলোতে গড়ে কত পিপ উঠানামা করে
টেবিল হতে দেখবেন যে, ইউরোপিয়ান সেশনে সবচেয়ে বেশি পিপ উঠানামা করে। এখন প্রতিটি সেশন আরো বিস্তারিতভাবে দেখি।
এখন আপনি জানেন যে ফরেক্স কি, কেন ট্রেড করা উচিত এবং কিভাবে ফরেক্স মার্কেট পরিচালিত হয়। এখন দেখি যে কখন ট্রেড করা যায়।
এটা সত্য যে, ফরেক্স মার্কেট ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সর্বদাই একটিভ থাকে।
আপনি মার্কেটে তখন ট্রেড করেন যখন আপনি মনে করেন যে, কারেন্সীর মূল্য বাড়বে অথবা কমবে। কিন্তু যখন মার্কেট বেশী মুভ করবেনা তখন ট্রেড করা আপানার জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হতে পারে।
বিশ্বাস করেন আর না করেন, এমন কিছু সময় আছে যখন মার্কেট একবারে মুভ করে না। কোন সময় ট্রেড করার উপযোগী এই সেকশনে আমরা তা দেখবো।
মার্কেটের সময়সূচী (Market hours)
আমদের আগে জানা উচিত যে, ২৪ ঘন্টার মার্কেট কিভাবে পরিচালিত হয়। ফরেক্স মার্কেটকে ৪টি ট্রেডিং সেশনে ভাগ করা যায়। নিম্নের টেবিলটি দেখুন
লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন যে, ২টা ট্রেডিং সেশনের এক পর্যায়ে ২টি মার্কেট খোলা থাকে।
সাধারনত ঐসব হলো ব্যাস্ততম সময় বানিজ্যক দিনে কারন সেখানে অনেক ভলিউম ট্রেড হয় যখন দুটি মার্কেট একই সময়ে খোলা থাকে। মার্কেটের সকল অংশগ্রহনকারী কাজকর্মে লিপ্ত হয় যার মানে অনেক অর্থ আদান প্রদান হয়।
এখন আপনি হয়তো সিডনীর ওপেনের দিকে নজর দিয়েছেন আর চিন্তা করছেন যে এটা ২ ঘণ্টা শিফট করেছে কেন। চিন্তা করতে পারেন যে সিডনী ওপেন ১ ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে যখন US যখন স্ট্যান্ডার্ড টাইম অ্যাডজাস্ট করে, কিন্তু মনে রাখবেন যখন US তাদের সময় ১ ঘণ্টা পিছিয়ে নেয় তখন সিডনী ১ ঘণ্টা সামনে যায় (অস্ট্রেলিয়াতে ঋতু উল্টা)।
চলুন দেখি যে মেজর ট্রেডিং সেশনগুলোতে গড়ে কত পিপ উঠানামা করে
পেয়ার
|
টোকিও
|
লন্ডন
|
নিউ ইয়র্ক
|
EUR/USD
|
76
|
114
|
92
|
GBP/USD
|
92
|
127
|
99
|
USD/JPY
|
51
|
66
|
59
|
AUD/USD
|
77
|
83
|
81
|
NZD/USD
|
62
|
72
|
70
|
USD/CAD
|
57
|
96
|
96
|
USD/CHF
|
67
|
102
|
83
|
EUR/JPY
|
102
|
129
|
107
|
GBP/JPY
|
118
|
151
|
132
|
AUD/JPY
|
98
|
107
|
103
|
EUR/GBP
|
78
|
61
|
47
|
EUR/CHF
|
79
|
109
|
84
|
টেবিল হতে দেখবেন যে, ইউরোপিয়ান সেশনে সবচেয়ে বেশি পিপ উঠানামা করে। এখন প্রতিটি সেশন আরো বিস্তারিতভাবে দেখি।
02 টোকিও সেশন
টোকিও সেশন (Tokyo session)
টোকিও সেশন ভোর ৫টায় শুরু হয় আর দুপুর ১টায় শেষ হয়। টোকিও সেশনকে এশিয়ান সেশনও বলা হয়ে থাকে। টোকিও হল এশিয়ার অর্থনৈতিক রাজধানী। জাপান হলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তর ফরেক্স ট্রেডিং সেন্টার।
বিস্মিত হওয়া উচিত নয় কারন ইয়েন হল বিশ্বের তৃতীয় সবচেয়ে বেশি লেনদেনকৃত মুদ্রা। শতকরা ১৬.৫০% সকল ফরেক্স লেনদেন এবং সর্বসম্মত শতকরা ২১% ফরেক্স লেনদেন ঘটে থাকে এশিয়ান সেশনে।
নিচের ১টি টেবিলে এশিয়ান সেশনে গড় পিপ মুভমেন্ট দেয়া হল
নিম্নে টোকিও সেশনের কিছু বৈশিষ্ঠ্য দেওয়া হলো যা আপনার জানা উচিত:
লেনদেন শুধু জাপানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রচুর পরিমানে ফরেক্স লেনদেন অন্যান্য ফাইনান্স্যিয়াল হটস্পটে হয়ে থাকে। যেমন: হংকং, সিংঙ্গাপুর এবং সিডনি।
টোকিও সেশনে প্রধান অংশগ্রহনকারী দল হলো, কমার্শিয়াল কোম্পানি (এক্সপোর্টার) এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। মনে রাখবেন জাপানের অর্থনিতি রপ্তানী নির্ভরশীল এবং চীনের সাথে প্রচুর পরিমানে লেনদেন করে থাকে।
মাঝে মাঝে মার্কেটে তারল্য খুব অল্প থাকে। এমনও সময় যাবে যখন আপনাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে একটা সুযোগ পাওয়ার জন্য।
এই সেশনে আপনি AUD/USD এবং NZD/USD বেশী উঠানামা দেখবেন।
অল্প তারল্য থাকাকালীন সময় কারেন্সী একটা রেঞ্জের মধ্যে উঠানামা করে। এটা রেঞ্জ ট্রেড অথবা ব্রেকআউট ট্রেডের সুযোগ দিয়ে থাকে।
বেশীরভাগ মুভমেন্ট সেশনের শুরুর দিকে দেখা যায়। যখন অর্থনৈতিক সংবাদ উন্মেচিত হয়।
টোকিও সেশনের মুভমেন্ট সারাদিনের মুভমেন্টের ধারনা দিতে পারে। ট্রেডাররা টোকিও সেশনের মুভমেন্ট দেখে সারাদিনে কিভাবে ট্রেড করবে তার ধারনা দিতে পারে।
সাধারনত যদি নিউইয়র্ক সেশনে বড় মুভ হয় তাহলে টোকিও সেশন শীথিল দেখা যেতে পারে।
টোকিও সেশন ভোর ৫টায় শুরু হয় আর দুপুর ১টায় শেষ হয়। টোকিও সেশনকে এশিয়ান সেশনও বলা হয়ে থাকে। টোকিও হল এশিয়ার অর্থনৈতিক রাজধানী। জাপান হলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তর ফরেক্স ট্রেডিং সেন্টার।
বিস্মিত হওয়া উচিত নয় কারন ইয়েন হল বিশ্বের তৃতীয় সবচেয়ে বেশি লেনদেনকৃত মুদ্রা। শতকরা ১৬.৫০% সকল ফরেক্স লেনদেন এবং সর্বসম্মত শতকরা ২১% ফরেক্স লেনদেন ঘটে থাকে এশিয়ান সেশনে।
নিচের ১টি টেবিলে এশিয়ান সেশনে গড় পিপ মুভমেন্ট দেয়া হল
নিম্নে টোকিও সেশনের কিছু বৈশিষ্ঠ্য দেওয়া হলো যা আপনার জানা উচিত:
লেনদেন শুধু জাপানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রচুর পরিমানে ফরেক্স লেনদেন অন্যান্য ফাইনান্স্যিয়াল হটস্পটে হয়ে থাকে। যেমন: হংকং, সিংঙ্গাপুর এবং সিডনি।
টোকিও সেশনে প্রধান অংশগ্রহনকারী দল হলো, কমার্শিয়াল কোম্পানি (এক্সপোর্টার) এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। মনে রাখবেন জাপানের অর্থনিতি রপ্তানী নির্ভরশীল এবং চীনের সাথে প্রচুর পরিমানে লেনদেন করে থাকে।
মাঝে মাঝে মার্কেটে তারল্য খুব অল্প থাকে। এমনও সময় যাবে যখন আপনাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে একটা সুযোগ পাওয়ার জন্য।
এই সেশনে আপনি AUD/USD এবং NZD/USD বেশী উঠানামা দেখবেন।
অল্প তারল্য থাকাকালীন সময় কারেন্সী একটা রেঞ্জের মধ্যে উঠানামা করে। এটা রেঞ্জ ট্রেড অথবা ব্রেকআউট ট্রেডের সুযোগ দিয়ে থাকে।
বেশীরভাগ মুভমেন্ট সেশনের শুরুর দিকে দেখা যায়। যখন অর্থনৈতিক সংবাদ উন্মেচিত হয়।
টোকিও সেশনের মুভমেন্ট সারাদিনের মুভমেন্টের ধারনা দিতে পারে। ট্রেডাররা টোকিও সেশনের মুভমেন্ট দেখে সারাদিনে কিভাবে ট্রেড করবে তার ধারনা দিতে পারে।
সাধারনত যদি নিউইয়র্ক সেশনে বড় মুভ হয় তাহলে টোকিও সেশন শীথিল দেখা যেতে পারে।
03 লন্ডন সেশন
লন্ডন সেশন (London Session)
ঠিক যখন এশিয়ন মার্কেট বন্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তখন ইউরোপিয়ান মার্কেট দিন শুরু করে।
ইউরোপে অনেক বানিজ্যিক কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও লন্ডনের দিকে সবাই নজর রেখে থাকে।
ঐতিহ্যগত ভাবে, লন্ডন সর্বদাই বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয় এর স্ট্রাটেজিক অবস্থানের কারনে।
লন্ডনকে আবার ফরেক্সের রাজধানীও বলা হয় কারন প্রতিটা মূহুর্তে হাজার হাজার লেনদেন সম্পন্ন হয় এই সেশনে। শতকরা ৩০ ভাগ ফরেক্স লেনদেন এই সেশনে সম্পন্ন হয়।
নিচে কিছু ইউরোপিয়ান সেশন সম্পর্কে দেওয়া হলো:
যেহেতু লন্ডন সেশন আরো ২টি বড় বানিজ্যিক সেশনের সাথে মিলিত হয, অনেক মোটা অঙ্কের লেনদেন এই সেশনে সম্পন্ন হয়।
অনেক বেশী লেনদেন এই সেশনে সম্পন্ন হয় বলে এই সেশনটা সবচেয়ে প্রানবন্ত।
বেশীরভাগ ট্রেন্ড এই সেশনে স্থাপিত হয় আর নিউইয়র্ক সেশনে আরো বিস্তার করে।
সেশনের মধ্যভাগে তারল্য কম দেখা দিতে পারে। কারন ট্রেডাররা নিউইয়র্ক সেশনের খোলার অপেক্ষায় থাকতে পারে।
মাঝেমাঝে ট্রেন্ড বিপরীতমূখীও হতে পারে। কারন লন্ডন সেশনের ট্রেডাররা তাদের লাভ আগেই নির্ধারিত করে রাখতে পারে।
ঠিক যখন এশিয়ন মার্কেট বন্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তখন ইউরোপিয়ান মার্কেট দিন শুরু করে।
ইউরোপে অনেক বানিজ্যিক কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও লন্ডনের দিকে সবাই নজর রেখে থাকে।
ঐতিহ্যগত ভাবে, লন্ডন সর্বদাই বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয় এর স্ট্রাটেজিক অবস্থানের কারনে।
লন্ডনকে আবার ফরেক্সের রাজধানীও বলা হয় কারন প্রতিটা মূহুর্তে হাজার হাজার লেনদেন সম্পন্ন হয় এই সেশনে। শতকরা ৩০ ভাগ ফরেক্স লেনদেন এই সেশনে সম্পন্ন হয়।
নিচে কিছু ইউরোপিয়ান সেশন সম্পর্কে দেওয়া হলো:
যেহেতু লন্ডন সেশন আরো ২টি বড় বানিজ্যিক সেশনের সাথে মিলিত হয, অনেক মোটা অঙ্কের লেনদেন এই সেশনে সম্পন্ন হয়।
অনেক বেশী লেনদেন এই সেশনে সম্পন্ন হয় বলে এই সেশনটা সবচেয়ে প্রানবন্ত।
বেশীরভাগ ট্রেন্ড এই সেশনে স্থাপিত হয় আর নিউইয়র্ক সেশনে আরো বিস্তার করে।
সেশনের মধ্যভাগে তারল্য কম দেখা দিতে পারে। কারন ট্রেডাররা নিউইয়র্ক সেশনের খোলার অপেক্ষায় থাকতে পারে।
মাঝেমাঝে ট্রেন্ড বিপরীতমূখীও হতে পারে। কারন লন্ডন সেশনের ট্রেডাররা তাদের লাভ আগেই নির্ধারিত করে রাখতে পারে।
04 নিউ ইয়র্ক সেশন
নিউ ইয়র্ক সেশন (Newyork session)
নিউইয়র্ক সেশন সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় আর রাত ২টায় শেষ হয়। ইউরোপিয়ান ও এশিয়ান সেশনের মত নিউইয়র্কও একটি বানিজ্যিক কেন্দ্র যাতে মার্কেট নজর রাখে।
নিচে টেবিল দেওয়া হলো নিউইয়র্ক সেশনের গড় মুভমেন্টের
বেশিরভাগ অর্থনৈতিক খবর সেশনের শুরুর দিকে প্রতাশিত হয়। মনে রাখবেন যে শতকরা ৮৫% ট্রেডে ডলার অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই যদি ইউএস থেকে কোন বড় অর্থনৈতিক খবর প্রতাশিত হয়, তাহলে গোটা মার্কেট মুভ করার সম্ভাবনা থাকে।
ইউরোপিয়ান সেশন শেষ হয়ে গেলে মানে নিউইয়র্ক সেশনের মাঝের দিকে মার্কেটে শিথিলতা নামতে দেখা যেতে পারে।
শুক্রবারে মার্কেট খুব শিথিল থাকতে পারে অথবা অপ্রত্যাশিত মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। এর কারন হল যে মার্কেট বন্ধ হয় এবং ট্রেডাররা ট্রেড ক্লোজ করে দেয় সাপ্তাহিক বন্ধের আগে।
নিউইয়র্ক সেশন সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় আর রাত ২টায় শেষ হয়। ইউরোপিয়ান ও এশিয়ান সেশনের মত নিউইয়র্কও একটি বানিজ্যিক কেন্দ্র যাতে মার্কেট নজর রাখে।
নিচে টেবিল দেওয়া হলো নিউইয়র্ক সেশনের গড় মুভমেন্টের
পেয়ার
|
নিউ ইয়র্ক
|
EUR/USD
|
77
|
GBP/USD
|
68
|
USD/JPY
|
34
|
AUD/USD
|
68
|
NZD/USD
|
62
|
USD/CAD
|
67
|
USD/CHF
|
56
|
EUR/JPY
|
72
|
GBP/JPY
|
77
|
AUD/JPY
|
71
|
EUR/GBP
|
36
|
EUR/CHF
|
-
|
বেশিরভাগ অর্থনৈতিক খবর সেশনের শুরুর দিকে প্রতাশিত হয়। মনে রাখবেন যে শতকরা ৮৫% ট্রেডে ডলার অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই যদি ইউএস থেকে কোন বড় অর্থনৈতিক খবর প্রতাশিত হয়, তাহলে গোটা মার্কেট মুভ করার সম্ভাবনা থাকে।
ইউরোপিয়ান সেশন শেষ হয়ে গেলে মানে নিউইয়র্ক সেশনের মাঝের দিকে মার্কেটে শিথিলতা নামতে দেখা যেতে পারে।
শুক্রবারে মার্কেট খুব শিথিল থাকতে পারে অথবা অপ্রত্যাশিত মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। এর কারন হল যে মার্কেট বন্ধ হয় এবং ট্রেডাররা ট্রেড ক্লোজ করে দেয় সাপ্তাহিক বন্ধের আগে।
05 সেশন ওভারল্যাপ
সেশন ওভারল্যাপ (Session Ovelaps)
যখন বেশি ট্রেডাররা মার্কেটে উপস্থিত থাকে, তখন মার্কেটে লিকুইডিটি অথবা তারল্য বেশি থাকে। সাধারনত আপনি চিন্তা করবেন যে যখন ২ টা সেশন সম্মিলিত হয় তখন মার্কেটে বেশী ট্রেডাররা থাকে। আপনি যদি এতটুকু চিন্তা করে থাকেন তাহলে আপনি অর্ধেক সঠিক চিন্তা করেছেন। চলুন দেখি কেন:
টোকিও লন্ডন ওভারল্যাপ (Tokyo London Overlap)
বেশ কিছু কারনের জন্য এই সেশনে তারল্য কম দেখা যেতে পারে। টোকিও সেশনের শেষের দিকে সাধারনত তেমন মুভমেন্ট থাকে না আর লন্ডন সেশন মাএ শুরু হয় তাই তারল্য অনেক কমে যায়।
এই সময়ে আপনি লন্ডন ও নিউইয়র্ক সেশনে ট্রেড করার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।
লন্ডন নিউইয়র্ক ওভারল্যাপ (London-New York Overlap)
আসল খেলা এই সময় শুরু হয়। যেহেতু এই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ২টি ফাইনান্স্যিয়াল সেন্টার একএে সম্মিলিত হয়। আর ট্রেডাররাও এই সময় প্রস্তুত থাকে যেহেতু এটা দিনের সবচেয়ে ব্যাস্ততম সময়।
এই সময়ে ইউএস, কানাডা এবং ইউরোপীয়ান খবর প্রকাশিত হয় তাই মার্কেটে বড় মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। যদি ইউরোপীয়ান সেশনে কোন ট্রেন্ড প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে তাহলে সেটা এই সেশনে সেই ট্রেন্ড বিস্তার করতে দেখতে পারি। এর কারন হল যে, ইউএস সেশনের ট্রেডাররা মার্কেটে প্রবেশ করে আর ট্রেন্ড আরো প্রসারিত হয়। আপনি এটাও লক্ষ্য করবেন যে এই সেশনের শেষের দিকে ইউরোপীয়ান ট্রেডাররা তাদেও ট্রেড বন্ধ করে দেয় যা মার্কেটে শিথিলতা আনতে পারে।
যখন বেশি ট্রেডাররা মার্কেটে উপস্থিত থাকে, তখন মার্কেটে লিকুইডিটি অথবা তারল্য বেশি থাকে। সাধারনত আপনি চিন্তা করবেন যে যখন ২ টা সেশন সম্মিলিত হয় তখন মার্কেটে বেশী ট্রেডাররা থাকে। আপনি যদি এতটুকু চিন্তা করে থাকেন তাহলে আপনি অর্ধেক সঠিক চিন্তা করেছেন। চলুন দেখি কেন:
টোকিও লন্ডন ওভারল্যাপ (Tokyo London Overlap)
বেশ কিছু কারনের জন্য এই সেশনে তারল্য কম দেখা যেতে পারে। টোকিও সেশনের শেষের দিকে সাধারনত তেমন মুভমেন্ট থাকে না আর লন্ডন সেশন মাএ শুরু হয় তাই তারল্য অনেক কমে যায়।
এই সময়ে আপনি লন্ডন ও নিউইয়র্ক সেশনে ট্রেড করার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।
লন্ডন নিউইয়র্ক ওভারল্যাপ (London-New York Overlap)
আসল খেলা এই সময় শুরু হয়। যেহেতু এই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ২টি ফাইনান্স্যিয়াল সেন্টার একএে সম্মিলিত হয়। আর ট্রেডাররাও এই সময় প্রস্তুত থাকে যেহেতু এটা দিনের সবচেয়ে ব্যাস্ততম সময়।
এই সময়ে ইউএস, কানাডা এবং ইউরোপীয়ান খবর প্রকাশিত হয় তাই মার্কেটে বড় মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। যদি ইউরোপীয়ান সেশনে কোন ট্রেন্ড প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে তাহলে সেটা এই সেশনে সেই ট্রেন্ড বিস্তার করতে দেখতে পারি। এর কারন হল যে, ইউএস সেশনের ট্রেডাররা মার্কেটে প্রবেশ করে আর ট্রেন্ড আরো প্রসারিত হয়। আপনি এটাও লক্ষ্য করবেন যে এই সেশনের শেষের দিকে ইউরোপীয়ান ট্রেডাররা তাদেও ট্রেড বন্ধ করে দেয় যা মার্কেটে শিথিলতা আনতে পারে।
06 সপ্তাহের কোন সময় ট্রেডের জন্য উপযুক্ত
সপ্তাহের কোন সময়টি ট্রেডের জন্য উপযুক্ত
আমরা এখন জানি যে, লন্ডন সেশন অন্যান্য সেশন থেকে ব্যস্ততম সময়। কিন্তু কিছুকিছু দিন আছে যা অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি মুভ করে। নিচের টেবিলটি দেখুনঃ
উপরের টেবিল থেকে দেখতে পারেন যে, সপ্তাহের মাঝের দিকটা সর্বোওম সময় ট্রেড করার জন্য। শুক্রবারে মার্কেটে অপ্রত্যাশিত অথবা অল্প মুভমেন্ট থাকতে পারে যেহেতু মার্কেট বন্ধ হয় ঐ দিনে।
তাই উপরের তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে, আমরা শিখলাম কখন মার্কেটে ব্যস্ততম সময় থাকে। এই ব্যস্ততম সময়ে সর্বোত্তম সময় ট্রেডের জন্য, কারন এই সময় সাফল্যের হার বাড়িয়ে দিতে পারে।
সময়ের সঠিক ব্যাবহার করুন
একজনের পক্ষে ২৪ ঘন্টা ট্রেড করা সম্ভব না। প্রত্যেকটা ট্রেডারের জানা উচিত যে সে কখন ট্রেড করা উচিত আর কখন ট্রেড না করা উচিত। আপনি আপনার ট্রেডের জন্য উপোযোগী সময় নিজে বের করে নিবেন। নিচের থেকে কিছু ধারনা নিতে পারেন যে কখন ট্রেড করা আপনার জন্য সর্বোওম।
ট্রেড করার জন্য সর্বোওম সময়
ট্রেডের জন্য বাজে সময়
আমরা এখন জানি যে, লন্ডন সেশন অন্যান্য সেশন থেকে ব্যস্ততম সময়। কিন্তু কিছুকিছু দিন আছে যা অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি মুভ করে। নিচের টেবিলটি দেখুনঃ
উপরের টেবিল থেকে দেখতে পারেন যে, সপ্তাহের মাঝের দিকটা সর্বোওম সময় ট্রেড করার জন্য। শুক্রবারে মার্কেটে অপ্রত্যাশিত অথবা অল্প মুভমেন্ট থাকতে পারে যেহেতু মার্কেট বন্ধ হয় ঐ দিনে।
তাই উপরের তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে, আমরা শিখলাম কখন মার্কেটে ব্যস্ততম সময় থাকে। এই ব্যস্ততম সময়ে সর্বোত্তম সময় ট্রেডের জন্য, কারন এই সময় সাফল্যের হার বাড়িয়ে দিতে পারে।
সময়ের সঠিক ব্যাবহার করুন
একজনের পক্ষে ২৪ ঘন্টা ট্রেড করা সম্ভব না। প্রত্যেকটা ট্রেডারের জানা উচিত যে সে কখন ট্রেড করা উচিত আর কখন ট্রেড না করা উচিত। আপনি আপনার ট্রেডের জন্য উপোযোগী সময় নিজে বের করে নিবেন। নিচের থেকে কিছু ধারনা নিতে পারেন যে কখন ট্রেড করা আপনার জন্য সর্বোওম।
ট্রেড করার জন্য সর্বোওম সময়
- যখন দুটি সেশন ওভারল্যাপিং হয়। এই সময়তে মেজর খবর প্রকাশিত হয় যা মার্কেটে তারল্য আনে আর ট্রেন্ডের গতিধারা নির্নয় করে দেয়।
- ইউরোপিয়ান সেশন তিনটির মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম সময়।
- সপ্তাহের মধ্যদিকে যখন মেজর পেয়ারগুলোতে সবচেয়ে বেশী মুভমেন্ট হয়।
ট্রেডের জন্য বাজে সময়
- রবিবার, প্রত্যেকে ঘুমায় অথবা সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগ করে।
- শুক্রবার US সেশনের শেষের দিকে তারল্য কমে যায়।
- অর্ধদিবস, প্রত্যেকে তখন আরাম করে।
- মেজর সংবাদ প্রকাশনার সময় - প্রাইস উপর-নিচ ২ দিকেই যেতে পারে।
- যদি সন্তোষজনক সময় না খুজে পান, তাহলে আপনি swing (সুইং) or position trader (পজিশন ট্রেডার) হওয়ার চিন্তা করতে পারেন। মার্কেটে সবার জন্য জায়গা আছে।





No comments:
Post a Comment